নমিনেশনতো শেখ হাসিনা দিবেনা, দিবো আমি আর ঝন্টু জনসভায় জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তুজা

5
নমিনেশনতো শেখ হাসিনা দিবেনা, দিবো আমি আর ঝন্টু জনসভায় জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোর্তুজা

স্টাফ রিপোর্টারঃ গত (৬ অক্টোবর) শনিবার বিকেলে আগামী ১১তম জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারে বর্তমান সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগর টগরের পক্ষে এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ঝন্টু। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন হাজী আলী আজগর টগর এমপি, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজা, দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল আলম ঝন্টু, জীবননগর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল, জারারিয়া আলম, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ওবাইদুর রহমান জিপু চৌধুরী, জীবননগর পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

জনসভা দুদিন পার হয়ে গেলেও, উক্ত জনসভায় দেওয়া বিশেষ অতিথি জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তু্জার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয়-ছাত্রলীগ,যুবলীগ,শ্রমিকলীগ, আওয়ামী লীগসহ এবং অন্যান্য আওয়ামী সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে একপ্রকার তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে “ গোলাম মোর্তুজা ” বলেন-এখন নমিনেশন নেওয়ার জন্য অনেকেই উলুবন থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন । “ নমিনেশন তো আর শেখ হাসিনা দেবেনা , নমিনেশন দিবো আমি আর দামুড়হুদার ঝন্টু

কারণ আমি জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ঝন্টু দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আমাদের সাথে কমিটির সবাই রয়েছে। আছেন সব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরাও। আমরা নমিনেশন দিবো, নমিনেশন পাবে হাজী আলী আজগর টগর।

এ সময় জনতার মূহুর মূহুর করতালি পড়লেও কিছু সংখ্যক নেতা কর্মীর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সমালোচনা ঝড় উঠেছে। অন্যদিকে অনুষ্ঠানের বক্তব্যের ভিডিওটি সামাজিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে আওয়ামী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী দলের নেত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করায় দল থেকে গোলাম মোর্তুজাকে বহিস্কার দাবী করছেন।

এ ব্যাপারে “চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাইমেন হাসান জোয়ার্দ্দার অনিক তার ফেসবুকে পেজে এই ঘটনার ধিক্কার জানান এবং সেই সাথে গোলাম মোর্তুজাকে বহিষ্কার না করলে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগ বৃহত্তর কর্মিসূচী প্রদান করতে বাধ্য হবে বলে হুশিয়ারী জানান। তার ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে দেওয়া হলো-

“ঝড়ের গতিতে শেয়ার হোক………….ধিক্কার জানাই জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের তথাকথিত সভাপতি,চরম জনবিচ্ছিন্ন নেতা গোলাম মোর্তুজা সাহেব কে। ১৯৯১ সালে জাসদ থেকে যোগ দেওয়া বর্তমান জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের অযোগ্য নামমাত্র সভাপতি গোলাম মোর্তুজার দুসাহস দেখুন তিনি চুয়াডাঙ্গা-২ এর বর্তমান এমপি আলী আজগারের গত ৬/১০/১৮ইং তারিখে কার্পাসডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াতের জনসভায় বলতেছেন নমিনেশন তো শেখ হাসিনা দেবেন না নমিনেশন দেবো আমি(মোর্তুজা) আর দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ঝন্টু । নমিনেশন দেওয়ার মালিক আমি আর ঝন্টু। আমরা দুজন সই করলে মনোনয়ন পাবেন আলী আজগার টগর। শেখ হাসিনা মনোনয়ন দেবেন না দেবো আমরা। এইসকল বাম সংগঠনের লোকের এত দুসাহস হয় কি করে যে দেশরত্নকে তুচ্ছ করার??? তাহলে কি এই গোলাম মোর্তুজা দেশরত্ন শেখ হাসিনার চেয়ে ক্ষমতাধর?? আমি চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের স্যারের দৃষ্টি আকর্ষন করছি অবিলম্বে এই গোলাম মোর্তুজাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবী জানাই। যে লোক নেত্রীকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে পারে তার আওয়ামী লীগে থাকার কোন অধিকার নাই। অতি দ্রুত তাকে দলীয় সকল কর্মকান্ড থেকে বহিষ্কার না করলে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগ বৃহত্তর কর্মিসূচী প্রদান করতে বাধ্য হবে। জয় হোক দেশরত্ন শেখ হাসিনার। ”

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আসজাদুল ইসলাম আজাদ প্রতিবেদককে বলেন, উনি যদি সত্যিই এ ধরনের কোনো বক্তব্য দিয়ে থাকেন তাহলে ঠিক বলেননি। নমিনেশন দেওয়ার ব্যাপারে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড আছে, যে পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আমাদের দলের সভানেত্রী। সেখানে সদস্য সচিব হলেন আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক আর দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বয়োজ্যেষ্ঠ নেতারা হলেন সেখানকার সদস্য । তারাই ঠিক করবেন কাকে নমিনেশন দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের এমপি জাতীয় সংসদের হুইপ সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দার সেলুন বলেন, এ ধরনের বক্তব্য দলীয় নেত্রীকে অবমাননার সামিল। ব্যাপারটি আমরা দলীয় হাই কমান্ডকে জানাবো।

প্রতিবেদনের স্বার্থে ,জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজা এবং চুয়াডাঙ্গা ২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্যের সাথে যোগাযোগ করা জন্য কয়েকবার ফোন দিলেও কেউ ফোন ধরেন নি।